আমি এধরনের লেখা লেখার কখনই প্রস্তুত ছিলাম না বা লেখতাম না কিন্তু যখন দেখা গেল মুক্ত চিন্তা ব্লগে নির্বাসিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন
তেঁতুলতত্ব নিয়ে মুখ খুললেনএকটা পোস্ট দেখলাম তার একটা জবাব দেওয়াই দরকার মনে করে এই লেখা
আচ্ছা আসা যাক মুল আলোচনায় । আল্লামা শফী সাহেব এই ধরনের কোন বয়ান করে ভিডিও বা অডিও বাজারজাত করেন নি বা কাউকে অনুমোদন দেন নি তা দৈনিক ইনকিলাব দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেছে ,আর তিনি একথা বলেছেন কেহ যদি করে থাকে তাহলে তার দায়ভার আমরা নিব না ।আর এটা যে একটা সরকারের ৫ সিটি তে হারার পর টের পেয়েছে হেফাজত কিজিনিস !! তখন থেকে তারা রেশমার মত আরেকটি নাটক সাজিয়ে হেফাজতকে কি ভাবে মানুষের কাছে বিষিয়ে তুলা যায় তার চিন্তা নিয়ে সুপারইম্পুজ করে বা কন্ঠ নকল শব্দ সংযোগ করে তা youtube এর মাধম্যে ছেড়ে আল্লামা শফী সাহেবের একটি বক্তব্য । ধুকা দেওয়ার পায়তারা করে ভিবিন্ন পেশার লেখক, রাজনিতিবিদ , সাহিত্যিক,নারীবাদী নারীরা ,অভিনেত্রীরা এম,পি মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী সহ গলা ফাটিয়ে আল্লামা শফী সাহেবের বিরুদ্ধে সংসদে সমাপনি ভাষনে যা কিছু বললেন তা কি ২% সত্য ??? !!! আর উনিত বড় গলায় বলে বেড়ান উনি কোন কিছু নিয়ে মিথ্যাচার করেন না !! তাহলে কি আমরা বুঝে নিব প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেন না নাটক সাজান ।
আর নাসলিমা নাসরিনের ব্যাপারে কি বলব বেচেরা !!! আসলে কি জানেন তার জন্য মনে হয় মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়াটাই সব চেয়ে বড় অপরাধ বা অভিশাপ ,আল্লামা শফী সাহেবের একটি বানুয়াট বক্তব্য নিয়ে মিডিয়ায় এত ঝড় তুপান সুনামী বইছে অথচ কেহ কি ভেবে দেখেছেন তাসলিমা নাসরিনের তেঁতুলতত্ব লেখার মাঝে নারীকে কতটা নিচে নামিয়েছেন !! অবাক করা বেপার এ ব্যাপারে পুরুষ কথা বাদ দিলাম কিন্তু নারী ত কিছু বলছেন !!! কোথায় প্রধানমন্ত্রী ? কোথায় রোকেয়া প্রাচী ?দেখুন তাসলিমা নাসরিন নারীদের ব্যাপারে কি বলেছেন ।আমি এখন তার লেখার কিছু কিছু অংশ যে গুলা সব চেয়ে আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে তা তুলে ধরে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব ।
তেতুঁল আমি খুব পছন্দ করতাম ছোটবেলায়। এখনও জিভে জল চলে আসে তেঁতুল দেখলেই। এত ফল থাকতে আল্লামা লোকটা তেঁতুল বেছে নিয়েছে কেন? ছেলেরা তো অত তেঁতুল পছন্দ করে না। মেয়েরা পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে বরং কোনও ছেলেকে দেখলে মেয়েদের মনে হতে পারে ছেলেটা তেঁতুলের মতো। স্মার্ট হ্যাণ্ডসাম ছেলে দেখলে বরং মেয়েদের লালা আসাটা স্বাভাবিক। ছেলেদের, ধরা যাক, কোনও কারণে লালা এলো। লালা এলে লালা ঝরতে দেওয়াই ভালো। বিয়ে করতে মন চাইলে করবে। এতে আপত্তিটা উঠছে কেন। সেক্স, বিয়ে, এসব তো অন্যায় কোনও কাজ নয়। অন্যায় কাজ হল, অন্যের আপত্তি সত্ত্বেও গায়ের জোরে সেক্স করা বা গায়ের জোরে বিয়ে করা।
তাতো নয়ই। অধিকাংশ লোকই মেয়েদের তেঁতুলই ভাবে। কেন, কত পুরুষ-কবি মেয়েদের কত ফুল-ফলের সঙ্গে তুলনা করেছে, পড়োনি? কমলা, ডালিম, আপেল, পেয়ারা, আনারস, গোলাপ, বেলি আরও কত কিছু বলে ডেকেছে মেয়েদের শরীরের নানা অংশকে। কেবল তেঁতুল বললেই রাগ হয়? তেঁতুল খুব সস্তা ফল বলে? দামী ফলের সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো এত রাগ হতো না। শুধু ফুল ফল! সবজিও তো আনা হয়েছে তুলনায়। পটলচেরা চোখ! শোনো, নারী-পুরুষের যৌন আকর্ষণ থাকাটা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু নারীকে নিতান্তই বস্তু ভাবাটা, যৌন-বস্তু ভাবাটা ঠিক নয়। যেন গোটা মানুষটা একটা ভ্যাজাইনা, গোটা মানুষটা একজোড়া স্তন, গোটা মানুষটা ত্বক, নাক চোখ, চুল; আর কিছু নয়। যেন মেয়েদের জ্ঞান বুদ্ধি, চিন্তা ভাবনা, ইচ্ছে অনিচ্ছে, নিজস্বতা, স্বকীয়তা, সম্মান, ব্যক্তিত্ব এসব নেই, বা এসব থাকলেও এসবের কোনও মূল্য নেই। মেয়েরা যেন নিজের জন্য জন্মায়নি, জন্মেছে পুরুষের জন্য, পুরুষের যৌন তৃষ্ঞা মেটানোর জন্য। তেঁতুলের প্রসঙ্গ তো এলো সে কারণে। ওই লোক কিন্তু পুরুষকে তেঁতুল বলেনি। মেয়েদেরও তো যৌন তৃষ্ঞা আছে বাবা! যদি পুরুষের চোখে মেয়েরা তেঁতুলের মতো, মেয়েদের চোখে পুরুষও তো তেঁতুলের মতো। কিন্তু এরা মেয়েদের যৌনতাকে কোনওদিন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে তো করেই না, বরং অস্বীকার করে, ওটি থাকলে মেয়েদের বেশ্যা বলে গালাগাল করে। এদের চোখে, পুরুষ হচ্ছে ফুলফ্লেজেড হিউম্যান, আর মেয়েরা হচ্ছে সেক্স-অবজেক্টস কাম স্লেভস। পুরুষকে যৌনতৃপ্তি দেওয়ার, পুরুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার, সেই সন্তানকে লালন পালন করার, ঘর সংসারের সব কাজকর্ম করার, রান্নাবান্না করার, পরিবেশন করার কাজ ছাড়া তাদের আর কোনও কাজ নেই। পু্রুষের মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা– এসবই হচ্ছে মেয়েদের পরিচয়। আর কোনও পরিচয় সমাজের ক’টা লোক মানে, বলো! পুরুষতন্ত্র হচ্ছে মেয়েদের বন্দি করে রাখার জন্য বোরখার মতো একটা বন্ধ কারাগার।--কেউ তো আল্লামা শফীর মতো এমন আজগুবি কথা আগে বলেনি!
- আচ্চা পাঠক বৃন্দ !! ; তাসলিমা নাসরিন নারীদের ব্যাপারে কি লিখছেন ? এটা কি নারীদের অধিকার ? বা উনি বললেন বিয়ে আর সেক্স জিনিসটা কে এক করে ফেলা । তাহলে বিয়ে নাকরে সেক্স করা তার নিকট মনে এটা অন্যায়ের কাজ নয় মন চাইলে যারতার সাথে তার অনুমতিক্রমে সেক্স করা ঠিক আছে !!উনি নারীদের নিয়ে এমন কিছু উক্তি করেছেন যা তাদেরকে জন্য অনেক বিপদ জনক ।আপনারাই দেখেন একজন মেয়ে হয়ে তার এসব কথা বলার কোন যুক্তি আছে ? আমি তার কথার কিছুই বলব না বা বিশ্লেষণ করবনা বরং এসব ব্যাপারে কুরআন হাদিসে কি বলা হয়েছে তা আলোচনা করব যা তার কথা জবাব হয়ে যাবে । আর এই সমস্ত উগ্র নারী সংগ্রামের নামে মুক্ত চিন্তা বা আলোচনা আরও বিপদ বয়ে আনছে বৈ কিছু না ।আপনারা তাসলিমা নাসরিনের লেখাটা দেখেই বুঝুন না উনারা বা উনাদের মত যারা আছেন তারা কি চান ? দেশ টা কে আয়্যামে জাহিলিয়্যাতের যুগে নিতে চায় !!সে তাসলিমার লেখার মতই জীবন যাপন করতে হত মেয়েদের ।নারীরা পেত তাদের কোন অধিকার ।তাদের কে জিন্দা কবরদেওয়া হত ।সরাইখানার বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার করা হত ,যে কোন মেয়েকে বাদী বানাতে তারা কোন কঠিন মনে করতনা !এক নিমিষেই সব করে ফেলত ।কিন্তু ইসলাম কি বলে দেখুন
আগেই বলেছি, সকলে নিজ নিজ দৃষ্টি থেকে এর প্রতিকারের কথা ভাবছেন। কেউ একটি মত পেশ করছেন, অন্যজন তা খন্ডন করে আরেকটি পথ বাতলাচ্ছেন। এসকল মতামতের সাথে আমি আমার কোনো মত যোগ করতে চাই না। কারণ মানুষ দুর্বল, তার চিন্তা-ভাবনা পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা প্রভাবিত। ফলে তার চিন্তা-ভাবনাও দুর্বল ও অসম্পূর্ণ। তাই স্রষ্টার দেয়া সমাধান তুলে ধরাই আমার এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য। তিনিই তো সৃষ্টি করেছেন নারী ও পুরুষ। তাদেরকে দিয়েছেন ভালো ও মন্দ স্বভাব। সুতরাং তাঁর নিকট থেকেই নির্দেশনা নিতে হবে; ভালো স্বভাবকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় এবং মন্দ স্বভাব থেকে কীভাবে বেঁচে থাকা যায়। আর তার কাছ থেকেই জানা দরকার কোন্ রোগের নিরাময় কিসে। কীভাবে আমরা বাঁচতে পারব ইভটিজিং এবং এ জাতীয় সামাজিক অবক্ষয় থেকে।
ইসলাম নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে
ইসলাম নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এ জাতীয় সমস্যার সমাধানে আল্লাহ তাআলা নারী পুরুষ উভয়কে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, যা মেনে চললে আমরা ইভটিজিং এবং সামাজিক আরো অনেক সমস্যা থেকে বাঁচতে পারব ইনশাআল্লাহ্। এ সকল নির্দেশনার মূলকথা হলো, আল্লাহ পুরুষকে তার দৃষ্টি অবনত রাখতে বলেছেন এবং এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, যা তার অন্তরে অন্যায়ের উদ্রেক ঘটায়। পুরুষ যদি তার দৃষ্টি অবনত রাখে তাহলে ইভটিজিংয়ের আবেদনই সৃষ্টি হয় না। তেমনি নারীকেও বলেছেন তার দৃষ্টি অবনত রাখতে, যাতে তার মনেও পুরুষকে দেখে কোনো কুমন্ত্রণা না আসে এবং নারীকে আরও বলেছেন, সে যেন তার সৌন্দর্য্য ও সাজসজ্জা পর-পুরুষের সামনে প্রকাশ না করে। নারী পুরুষ উভয়েই যদি স্রষ্টার এই নির্দেশনা মেনে চলে তাহলেই পুরুষ বাঁচবে এ অন্যায় থেকে এবং পুরুষের মা-বোন নারী বাঁচবে জুলুম থেকে।
নারীর অবস্থানস্থল ও কর্মস্থল
এরপর প্রথম কথা হল, নারীর অবস্থানস্থল ও কর্মস্থল ঘর। এখানে বসেই নারী একটি সৎ ও যোগ্য জাতি নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে। এখানেই সে বেশি নিরাপদ। সুতরাং এ কথা ভাবার কোনো অবকাশ নেই যে, যে নারী ঘরে বসে এ মহান দায়িত্ব পালন করছে,সে জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছে না। সুতরাং ঘরের বাইরের উন্নয়নেও তাকে অংশগ্রহণ করতে হবে। জাতির উন্নয়নের দুই ক্ষেত্র : ঘর ও বাহির। এ দুইয়ের একটি ক্ষেত্র যখন খালি ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে তখন অপর ক্ষেত্রে শত চেষ্টা করেও উন্নতি লাভ সম্ভব হবে না। মানবোন্নয়নই নারীর প্রধান কাজ; কোম্পানির পণ্য উৎপাদন নয়।
প্রয়োজনে যদি নারীকে ঘর থেকে বের হতে হয়
আর প্রয়োজনে যদি তাকে ঘর থেকে বের হতে হয় তাহলে সে যেন জাহেলী যুগের নারীদের মত নিজেকে প্রদর্শন না করে। কারণ নারীর নিরাপত্তাহীনতার প্রথম কারণ হল নিজেকে অশালীনভাবে মানুষের সামনে পেশ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
و قرن في بيوتكن ولا تبرجن تبرج الجاهلية الأولى، و أقمن الصلاة و آتين الزكاة و أطعن الله و رسوله، إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس أهل البيت و يطهركم تطهيرا. و اذكرن ما يتلى في بيوتكن من آيات الله و الحكمة، إن الله كان لطيفا خبيرا.
আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর। আর প্রাকজাহেলী যুগের মত নিজেদের প্রদর্শন করো না। তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত থাক। হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে চান এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান। আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর আয়াত ও যে জ্ঞানের কথা আলোচনা হয় তা স্মরণ রাখ। আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সব বিষয়ে অবহিত।-সূরা আহযাব : ৩৩-৩৪
নারী হল ‘আওরাত’
হাদীসে বেগানা নারীকে বলা হয়েছে ‘আওরত’ যার অর্থ এমন বস্ত্ত, যা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা উচিৎ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
المرأة عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان
নারী হল ‘আওরত’। (অর্থাৎ যার লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা উচিৎ।) নারী যখন ঘর থেকে বের হয় (নিজেকে মানুষের সামনে প্রকাশ করে) তখন শয়তান তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়।-জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৭৩
সাজ-সজ্জায় নেই মানা তবে...
নারী সাজবে নারীর মত করে। পৃথিবীর যত স্বর্ণ সব নারীর জন্য, পুরুষের জন্য তা হারাম। যত রেশমী বস্ত্র সব নারীর জন্য, পুরুষের জন্য তা নিষিদ্ধ। যত মণি-মুক্তা হিরা জহরত সব নারীর জন্য। সব দিয়ে নারী নিজেকে সাজাবে তবে...। তবে আল্লাহ্র সীমারেখা অতিক্রম করবে না।
ولا يبدين زينتهن إلا لبعولتهن أو آبائهن أو آباء بعولتهن أو أبنائهن أو أبناء بعولتهن أو إخوانهن أو بني إخوانهن أو بني أخواتهن أو نسائهن أو ما ملكت أيمانهن أو التابعين غير أولي الإربة من الرجال أو الطفل الذين لم يظهروا على عورات النساء.
নারীরা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, যৌন কামনা-রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অংগ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারো সামনে তাদের সাজ-সজ্জা প্রকাশ না করে।-সূরা নূর : ৩১
লজ্জা ও শালীনতা
লজ্জা নারীর স্বভাবজাত বিষয়। আমরা দেখি মেয়ে শিশু স্বভাবতই লজ্জাশীলা হয়। কিন্তু পরিবেশ এই স্বভাবকে অসুস্থ করে তোলে। যেমন হাদীসে এসেছে ‘‘প্রতিটি শিশুই ইসলাম গ্রহণের স্বভাবজাত যোগ্যতা নিয়ে জন্ম নেয়, কিন্তু মাতা পিতা তাকে ইহুদী বা নাসারা বানায়’’।
আর লজ্জা ও শালীনতাবোধ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শালীনতার চূড়ান্ত শরয়ী রূপ হল পর্দা। পর্দার মধ্যে বড় ওড়না বা বোরকা, সেগুলো আকর্ষণীয় না হওয়া, কথার আওয়াজ কোমল ও আকর্ষণীয় না হওয়া, কথার বিষয়বস্ত্ত ও বাক্য শালীন হওয়া, চলার ভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি মার্জিত হওয়া, বাইরে বের হলে সুগন্ধি ব্যবহার না করা, আকর্ষণ ও প্রদর্শন থেকে বিরত থাকা, পবিত্র মানসিকতা, আল্লাহর ভয় ইত্যাদি অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত। আর সবগুলো বিষয় পালন করার জন্য শুধু একটি বিষয় প্রয়োজন। তা হল তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়।
এ বিষয়টিই পর্দার আনুষাঙ্গিক সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে যার পর্দার শুরু আল্লাহভীতি থেকে তার আপনাআপনিই বাকিগুলো এসে যায়। আর যার পর্দার শুরু হয় পোশাক থেকে তার মাঝে আল্লাহভীতি আসা পর্যন্ত বাকি সবগুলো বোঝা মনে হয়। আর আল্লাহভীতি আসার জন্য সবচেয়ে সহায়ক হল সঠিক তারবিয়াত বা তত্ত্বাবধান ও সুন্দর পরিবেশ এবং সহীহ ইল্ম তথা পর্দা ও ইসলাম সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা।
কারো মাঝে যখন লজ্জাবোধ থাকে না তখন সে সবকিছুই করতে পারে। একটি হাদীসে এসেছে,
إذا لم تستحي فاصنع ما شئت
‘‘যখন তোমার থেকে লজ্জা বিদায় নেয় তখন যা ইচ্ছা তাই কর’’।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬১২০; সুনানে আবু দাউ, হাদীস : ৪৭৬৪
সন্তান হারিয়েছি, লজ্জা হারাইনি ...
উম্মে খাল্লাদ নামের এক মহিলা সাহাবী তার সদ্য শাহাদাতবরণকারী
সন্তান সম্পর্কে জানার জন্য রসূলের দরবারে এলেন। তার চেহারা নেকাবে ঢাকা ছিল। এক সাহাবী তাকে বললেন, তুমি তোমার শাহাদাতবরণকারী সন্তান সম্পর্কে জানতে এসেছ, (আর এমন শোকের মূহূর্তেও) তোমার চেহারা নেকাবে ঢাকা! তখন সাহাবিয়্যা উত্তরে বললেন, ‘‘সন্তান হারিয়েছি, লজ্জা হারাইনি’’।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৮৮
জাহান্নামের আগুন অনেক বেশি উত্তপ্ত
হযরত সাফিয়্যা বিনতে শাইবা বলেন, ‘‘আমরা আয়েশা রা.-এর কাছে বসা ছিলাম। কুরাইশ গোত্রের নারী এবং তাদের গুণাবলির প্রসঙ্গ আলোচনায় এল। তখন হযরত আয়েশা রা. বললেন, কুরাইশ বংশের নারীদের বিশেষত্ব অবশ্যই আছে, তবে আমি আনসারী নারীদের চেয়ে কিতাবুল্লাহ্র প্রতি অধিক বিশ্বাসী ও আস্থাশীল আর কাউকে দেখিনি। যখন সূরা নূরের এই আয়াত অবতীর্ণ হল-
وليضربن بخمرهن على جيوبهن
‘এবং তারা যেন তাদের বক্ষদেশে ওড়না জড়িয়ে রাখে’ তখন তাঁদের পুরুষগণ নিজ-নিজ ঘর বাড়িতে তাদের স্ত্রী, কন্যা ও বোনদের গিয়ে এই আয়াত শোনালেন আর অমনি তারা বড় বড় চাদর দিয়ে নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে ফেলল। এটা ছিল আল্লাহ্র কিতাবের প্রতি তাদের নিষ্কম্প বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
قل نار جهنم أشد حرا
‘বলে দিন, জাহান্নামের আগুন এরচেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত।’
নিঃসন্দেহে এমন পবিত্রাত্মা মুসলিম নারীর মাধ্যমেই মুসলিম ঘরসমূহ আবাদ হয়, নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠে পবিত্র বৈশিষ্ট্যাদি নিয়ে এবং এদের মাধ্যমেই মুসলিমসমাজে জন্ম নেয় সমাজসংস্কারক কর্মবীর সন্তানেরা।’’-শাখসিয়্যাতুল
পোষাক যেন হয় শালীন
নারীর পোষাক যেন আটসাঁট ও উগ্র না হয় এবং ভাবভঙ্গি ও চালচলন যেন অশালীন না হয়-এ বিষয়ে হাদীসে সতর্ক করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
... نساء كاسيات عاريات مميلات مائلات
কতক নারী আছে যারা পোষাক পরেও নগ্ন, যারা (পরপুরুষকে) আকর্ষণকারী ও (পরপুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট। যারা বুখতী উটের হেলানো কুঁজের মতো মাথা বিশিষ্ট। এরা জান্নাতের সুবাস পর্যন্ত পাবে না।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২১২৮; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৮৬৬৫
একটি পত্রিকার শিরোনাম দেখলাম ‘‘নারীদের ক্ষুদ্র পোশাক তরুণদের প্রলুব্ধ করে’’ সেখানে একজন সাবেক অভিনেতা ও বর্তমান রাজনীতিবিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, তিনি নারীদেরকে ইভটিজিং থেকে নিরাপদ থাকতে পোশাক-আশাকে শালীনতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, ‘‘নারীদের উগ্র ও উত্তেজক পোশাক পরিধানও ইভটিজিং বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী ... তা কমবয়সী তরুণদের প্রলুব্ধ করে’’ বক্তার নাম বলার প্রয়োজন নেই, বড় বিষয় হল তিনি এমন ময়দানের মানুষ, যিনি পূর্ণ উপলব্ধির সাথে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে সক্ষম।
এ ছাড়া আরো কয়েকটি দৈনিকের শিরোনাম ছিল : ‘‘ইভটিজিং রোধ জরুরী, গণজাগরণ সৃষ্টি, ধর্মীয় সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের’’।
পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করব না
ইসলাম নারীদের পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
হযরত ইবনে আববাস রা. বলেন, যে সকল নারী পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং যে সকল পুরুষ নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লানত করেছেন।-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৭৮৪
সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে যাব না
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক চোখ যিনা করে। আর কোনো নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো মজলিসের পাশ দিয়ে যায় তাহলে সে এই ... এই ... অর্থাৎ সেও যিনাকারী (নযরের যিনার প্রতি বা যিনার প্রতি প্রলুব্ধকারী)।-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৭৮৬
নারী যেন সজোরে পদক্ষেপ না ফেলে
و لا يضربن بأرجلهن ليعلم ما يخفين من زينتهن
নারীরা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে।-সূরা নূর : ৩১
নারী নুপুর পরতে পারে তবে তা হবে বাজনাবিহীন যেন সেই নুপুরের আওয়াজ শয়তানকে সাহায্য না করে। পরপুরুষকে প্রলুব্ধ না করে।
পরপুরুষের সাথে আকর্ষণীয় স্বরে কথা নয়
আল্লাহ নারীদের (উম্মাহাতুল
মুমিনীনকে) সম্বোধন করে বলেছেন-
يا نساء النبي لستن كأحد من النساء، إن اتقيتن فلا تخضعن بالقول، فيطمع الذي في قلبه مرض و قلن قولا معروفا.
হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে পরপুরুষের সাথে কোমল স্বরে কথা বলো না। এতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হবে। তোমরা ন্যায়সংগত কথা বল।-সূরা আহযাব : ৩২
পরস্পরের লেনদেন যদি পর্দার আড়াল থেকে হয় এবং কথা বলার প্রয়োজনে যদি আকর্ষণীয় ও কোমল স্বরে কথা না বলে তাহলে কারো মনেই অন্যায়ের ইচ্ছা জাগবে না। দেখুন শুধু পর্দার আড়াল থেকে লেনদেনই যথেষ্ট নয়, যে নারী মোবাইলে কথা বলছে তাকে তো পুরুষ দেখছে না কিন্তু এটুকু তো ফিৎনা থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং কোমল স্বরে কথা বলা থেকেও বিরত থাকা জরুরী। এ বিষয়টিই আল্লাহ নিষেধ করেছেন। কারণ নারীর কোমল স্বর স্বভাবতই পুরুষকে আকৃষ্ট করে। সুতরাং একথা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, আমি তো পর্দার আড়াল থেকেই কথা বলছি, সুতরাং যা বলি যেভাবে বলি কোনো সমস্যা নেই।
মোটকথা নারী বা পুরুষ সকলকেই এমন সব কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা অন্যায়ের প্রতি প্রলুব্ধ করে। এবার যার মাঝে আল্লাহর ভয় আছে এবং যে নিরাপদ থাকতে চায় সে নিজেই বলতে পারবে, তার কোন্ কাজ থেকে বেঁচে থাকা উচিত এবং কোন্ কাজ কীভাবে করা উচিৎ।
আল্লাহর আদেশ শিরোধার্য
আল্লাহ সূরা আহযাবের পর্দা বিষয়ক আয়াতের পর বলছেন-
وما كان لمؤمن و لا مؤمنة إذا قضى الله و رسوله أمرا أن يكون لهم الخيرة من أمرهم،و من يعص الله و رسوله فقد ضل ضلالا مبينا.
আল্লাহ ও তার রাসূল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন নর-নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করবে সে স্পষ্ট পথভ্রষ্ট।-সূরা আহযাব : ৩৬
সুতরাং আমাদের এ কথা মনে করার কোনো অবকাশ নেই যে, আমার ইচ্ছা হলে মানলাম ইচ্ছা না হলে মানলাম না। এ কথা ভালো করে বুঝতে হবে, ইসলামের সকল অপরিহার্য বিধানই মুমিনের জন্য বাধ্যতামূলক, ঐচ্ছিক নয়। এখানে আমার মন চাওয়া না চাওয়া, ভালো লাগা না লাগার কোনো স্থান নেই। যে মেনে নেবে সে দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপদ থাকবে আর যে মানবে না তার কর্মের ফল সে ভোগ করবে; দুনিয়াতে ও আখেরাতে
পুরুষ যেন দৃষ্টিকে সংযত করে
قل للمؤمنين يغضوا من أبصارهم و يحفظوا فروجهم ذلك أزكى لهم، إن الله خبير بما يصنعون.
আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এটা তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে ব্যাপারে সম্যক অবগত।-সূরা নূর : ৩০
সাথে সাথে নারীও যেন পুরুষকে দেখে আকৃষ্ট না হয় তাই নারীকেও বলেছেন-
و قل للمؤمنات يغضضن من أبصارهن و يحفظن فروجهن
এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।-সূরা নূর : ৩০
পুরুষ যেন নারীর প্রতি দৃষ্টি না দেয় সে বিষয়ে হাদীসে সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অর্থ : ... চোখের যিনা হল কুদৃষ্টি, আর যবানের যিনা হল খারাপ কথা বলা। নফস খারাপ কাজের আকাংখা করে ও কামনা করে, আর গুপ্তাঙ্গ তা বাস্তবায়িত করে বা তা থেকে বিরত থাকে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২১৫২
অর্থাৎ সকল খারাপের সূচনা হয় দৃষ্টির অপব্যবহার থেকে। কেননা দৃষ্টিই হল অন্তরের জানালা। দৃষ্টি যদি স্বচ্ছ ও পবিত্র থাকে তাহলে অন্তরও পবিত্র থাকবে। নতুবা অন্তর কলুষিত হবে। আর অন্তর যদি কলুষিত হয় তাহলে দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুনাহের পথে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই তো দৃষ্টিকে বলা হয়েছে শয়তানের তীর।
মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ
এসব বিষয়ে মিডিয়ার দায় অনেক। প্রিন্ট মিডিয়া এক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ভূমিকা এক্ষেত্রে একেবারেই গৌণ; বরং তারা এ বিষয়টিকে আরো উস্কে দিচ্ছে। টিভি চ্যানেলের প্রতিটি অনুষ্ঠানই ইভটিজিং ও যেনা এ জাতীয় অন্যায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী। এসবের সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এফ.এম রেডিও চ্যানেলগুলো। এগুলোর স্রোতে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যেন ভেসে চলেছে। সারাদিন গান, কানে কানে হেডফোন। তারপর রাত জেগে আড্ডা, ভূত এফ.এম, আরো কত কী। যে সমস্ত ঘরে এখনো টি.ভি নেই তারাও এফ.এম-এর কাল থাবা থেকে বাঁচতে পারছে না। সমাজ ও সরকারের হাতে এখনো সময় আছে এগুলোর লাগাম টেনে ধরার।
পোশাক-শিল্পের নিয়ন্ত্রণ
পোশাক শিল্পের কথা আর কী বলব। সব কিছুর একটা নিয়ম নীতি থাকে এবং সব বিষয়ের একটা নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। কিন্তু পোশাক শিল্পে যেন কোনো নিয়ম নীতি নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই। জোরে হর্ণ বাজালে হয় শব্দদূষণ,গাড়ির বা কল-কারখানার কালো ধোঁয়ায় হয় পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ূ পরিবর্তন। কিন্তু অশালীন পোশাকের যেন কোনো দূষণ নেই, পরিবেশ ও সমাজের উপর যেন পোশাকের ভাল মন্দের কোনো প্রভাব নেই। যার যা খুশি উৎপাদন কর ও বাজারজাত কর, যা খুশি কেন ও পর। পাবলিক প্লেসে সিগারেট দুর্গন্ধ ছড়ায়, অন্যের ক্ষতি হয়, সুতরাং ‘‘ধূমপান নিষেধ’’। কিন্তু পাবলিক প্লেসে অশালীন পোশাক পরলে কোনো দুর্গন্ধও ছড়ায় না, কারো হৃদয় আক্রান্তও হয় না।
ইমাম ও শিক্ষকশ্রেণীর দায়
ইমাম-খতীব ও শিক্ষকদের সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং তাদের কথা মানার চেষ্টা করে। বিশেষ করে শিক্ষকগণ যদি ছোট থেকেই শিক্ষার্থীর মানসিকতা উন্নত করতে চেষ্টা করেন তাদের ভালো মন্দ, কল্যাণ অকল্যাণ বোঝাতে পারেন তা শিশুকে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
সুস্থ সমাজ ...
একটি সুন্দর সমাজ ব্যক্তিকে ভালো বা মন্দ বানাতে পারে। এজন্য পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব সমাজকে সুন্দর করা। উঠতি বয়সের একটি ছেলে বা মেয়ে চারিদিকে যা দেখে সেভাবেই নিজেকে গড়তে চায়। টি.ভি চ্যানেলে যা দেখে নিজের বাস্তব জীবনকেও সেভাবে ভাবে। তার তো আর এই বোধ নেই যে, আমি যা দেখছি তা নিছক অভিনয়। ফলে পিতা-মাতার আদেশ অবুঝ সন্তানের কাছে অরুচিকর মনে হয় এবং এর মধ্যেই যে তার কল্যাণ রয়েছে তা বুঝে আসে না। গলিত সমাজের নানামুখী প্রচারণার মধ্যে ইসলামী অনুশাসন তাদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। কিন্তু এতেই যে রয়েছে তার সুস্থ-সুন্দর-শালীন জীবনের প্রতিশ্রুতি তা-ও তার বোধগম্য হয় না।
মোটকথা, নারী পুরুষের মানসিকতা, তাদের চিন্তা চেতনা, সংস্কৃতি, পোশাক, টি.ভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান সব হবে ইভটিজিং ও এ জাতীয় অন্যায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী। আর এসব কিছু আপন অবস্থায় বহাল রেখে শুধু আইন করে, শাস্তি দিয়ে, আর কলাম লিখে ও মানব বন্ধন করে সব ঠিক করে ফেলা যাবে এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। রোগের বীজ কার্যকর রেখে নিরাময়ের আশা দূরাশা নয় কি? অবশ্যই দূরাশা। শেকড়ে বিষ রেখে আমরা বৃক্ষের ফল সুমিষ্ট পাব-এটা হতে পারে না।
বাস্তবতা বুঝতে হবে। জীবনযাপন ও অনুশীলনের মূল জায়গাটায় মনোযোগ না দিলে এর ফলাফল নিয়ে ভাবিত হওয়ায় কোনো সুফল নেই। এতে কেবল ভাবনা-দুশ্চিন্তার পরিমাণ বাড়তেই পারে, কমবে না।
সুতরাং আমরা যদি আমাদের সমাজকে অন্যায় থেকে রক্ষা করতে চাই তাহলে স্রষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে। আসুন, আমরা চেষ্টা করি এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সমাজের সকল অঙ্গনে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলি। যারা বুঝি তারা অন্যদের বোঝাতে চেষ্টা করি।
আর হা তাসলিমা নাসরিন আল্লামা শফী সাহেবের ব্যাপারে একথা বলেছেন
লোকটা আমার মনে হচ্ছে, খুব সৎ লোক। পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ার কায়দাটা এখনও শেখেনি। ধুরন্দররা ওসব শিখে নেয় আগেভাগে। তারপর তলে তলে সমাজটাকে নষ্ট করে। আল্লামা কিন্তু নতুন কোনও কথা বলেনি। সবার জানা কথাগুলোই বলেছে।
এসব বিষয়ে মিডিয়ার দায় অনেক। প্রিন্ট মিডিয়া এক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ভূমিকা এক্ষেত্রে একেবারেই গৌণ; বরং তারা এ বিষয়টিকে আরো উস্কে দিচ্ছে। টিভি চ্যানেলের প্রতিটি অনুষ্ঠানই ইভটিজিং ও যেনা এ জাতীয় অন্যায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী। এসবের সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এফ.এম রেডিও চ্যানেলগুলো। এগুলোর স্রোতে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যেন ভেসে চলেছে। সারাদিন গান, কানে কানে হেডফোন। তারপর রাত জেগে আড্ডা, ভূত এফ.এম, আরো কত কী। যে সমস্ত ঘরে এখনো টি.ভি নেই তারাও এফ.এম-এর কাল থাবা থেকে বাঁচতে পারছে না। সমাজ ও সরকারের হাতে এখনো সময় আছে এগুলোর লাগাম টেনে ধরার।
পোশাক-শিল্পের নিয়ন্ত্রণ
পোশাক শিল্পের কথা আর কী বলব। সব কিছুর একটা নিয়ম নীতি থাকে এবং সব বিষয়ের একটা নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। কিন্তু পোশাক শিল্পে যেন কোনো নিয়ম নীতি নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই। জোরে হর্ণ বাজালে হয় শব্দদূষণ,গাড়ির বা কল-কারখানার কালো ধোঁয়ায় হয় পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ূ পরিবর্তন। কিন্তু অশালীন পোশাকের যেন কোনো দূষণ নেই, পরিবেশ ও সমাজের উপর যেন পোশাকের ভাল মন্দের কোনো প্রভাব নেই। যার যা খুশি উৎপাদন কর ও বাজারজাত কর, যা খুশি কেন ও পর। পাবলিক প্লেসে সিগারেট দুর্গন্ধ ছড়ায়, অন্যের ক্ষতি হয়, সুতরাং ‘‘ধূমপান নিষেধ’’। কিন্তু পাবলিক প্লেসে অশালীন পোশাক পরলে কোনো দুর্গন্ধও ছড়ায় না, কারো হৃদয় আক্রান্তও হয় না।
ইমাম ও শিক্ষকশ্রেণীর দায়
ইমাম-খতীব ও শিক্ষকদের সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং তাদের কথা মানার চেষ্টা করে। বিশেষ করে শিক্ষকগণ যদি ছোট থেকেই শিক্ষার্থীর মানসিকতা উন্নত করতে চেষ্টা করেন তাদের ভালো মন্দ, কল্যাণ অকল্যাণ বোঝাতে পারেন তা শিশুকে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
সুস্থ সমাজ ...
একটি সুন্দর সমাজ ব্যক্তিকে ভালো বা মন্দ বানাতে পারে। এজন্য পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব সমাজকে সুন্দর করা। উঠতি বয়সের একটি ছেলে বা মেয়ে চারিদিকে যা দেখে সেভাবেই নিজেকে গড়তে চায়। টি.ভি চ্যানেলে যা দেখে নিজের বাস্তব জীবনকেও সেভাবে ভাবে। তার তো আর এই বোধ নেই যে, আমি যা দেখছি তা নিছক অভিনয়। ফলে পিতা-মাতার আদেশ অবুঝ সন্তানের কাছে অরুচিকর মনে হয় এবং এর মধ্যেই যে তার কল্যাণ রয়েছে তা বুঝে আসে না। গলিত সমাজের নানামুখী প্রচারণার মধ্যে ইসলামী অনুশাসন তাদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। কিন্তু এতেই যে রয়েছে তার সুস্থ-সুন্দর-শালীন জীবনের প্রতিশ্রুতি তা-ও তার বোধগম্য হয় না।
মোটকথা, নারী পুরুষের মানসিকতা, তাদের চিন্তা চেতনা, সংস্কৃতি, পোশাক, টি.ভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান সব হবে ইভটিজিং ও এ জাতীয় অন্যায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী। আর এসব কিছু আপন অবস্থায় বহাল রেখে শুধু আইন করে, শাস্তি দিয়ে, আর কলাম লিখে ও মানব বন্ধন করে সব ঠিক করে ফেলা যাবে এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। রোগের বীজ কার্যকর রেখে নিরাময়ের আশা দূরাশা নয় কি? অবশ্যই দূরাশা। শেকড়ে বিষ রেখে আমরা বৃক্ষের ফল সুমিষ্ট পাব-এটা হতে পারে না।
বাস্তবতা বুঝতে হবে। জীবনযাপন ও অনুশীলনের মূল জায়গাটায় মনোযোগ না দিলে এর ফলাফল নিয়ে ভাবিত হওয়ায় কোনো সুফল নেই। এতে কেবল ভাবনা-দুশ্চিন্তার পরিমাণ বাড়তেই পারে, কমবে না।
সুতরাং আমরা যদি আমাদের সমাজকে অন্যায় থেকে রক্ষা করতে চাই তাহলে স্রষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে। আসুন, আমরা চেষ্টা করি এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সমাজের সকল অঙ্গনে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলি। যারা বুঝি তারা অন্যদের বোঝাতে চেষ্টা করি।
আর হা তাসলিমা নাসরিন আল্লামা শফী সাহেবের ব্যাপারে একথা বলেছেন
লোকটা আমার মনে হচ্ছে, খুব সৎ লোক। পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ার কায়দাটা এখনও শেখেনি। ধুরন্দররা ওসব শিখে নেয় আগেভাগে। তারপর তলে তলে সমাজটাকে নষ্ট করে। আল্লামা কিন্তু নতুন কোনও কথা বলেনি। সবার জানা কথাগুলোই বলেছে।
আর যারা বড় বড় আলেম বা বুজুর্গ ব্যাক্তি আল্লাহর খাটি বান্দা তারা কখনো ধুকাবাজ হতে পারেন না বা কাউকে ধুকা দিতে পারেন না তিনারা যা কিছু বলেন কুরআন সুন্নাহর আলোকে কথা বলে থাকেন ।পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ার কায়দা এর প্রয়োজন নেই ।আলেম সমাজ ধুকাবাজী পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ার কোন জরুরত মনে করেন না । তাই দেখেন না উনার ডাকে লক্ষ লক্ষ তাওহিদী জনতা রাজপথে নেমে এসেছেন এবং তিন হাজারের উপরে জনতা শহীদের সুদা পান করেছেন শাপলা চত্বরে ৬ মে ২০১৩ ঈসায়ী ।
প্রিয় পাঠক বৃন্দ !
তাসলিমা নাসরিনের ব্লগে দেখেন কি লিখেছেন তিনি, আমি মনে করি তিনি যা বললেন তা একজন পর্ণগ্রাফী এক্টরাই বলতে পারে । তাসলিমা ত সেরকম ওপেন ফ্রী সেক্স ,পর্ণ সিনেমা এসব মনে হয় আমাদের দেশে নিয়ে আসতে আগ্রহী । আর দেখেন বর্তমানে স্কুল ,কলে, ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের দিকে শতকরা ৭০% ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ফোনে পর্ণ ভিডিও আছে । এটা কি যুব সমাজকে অধপতনে নিচ্ছে না । তারপর আবার নারী স্বাধীনতা নামে নারীদের সৌন্দর্য চর্চার যেন মহা মিলন মেলা ।যাদের চেহেরা কোন সাইজ নাই তারা মেকাফ মেরে ৫০ বছরের বুড়ী ২০ বছরের যুবতী সেজে যায় ।আর এরা নাকি দেশের সুশীল নারী সমাজ ? এদের মাধ্যমে নারীদের অধিকার গড়ে তুলবে প্রগতীশীলরা ?
আর হা বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাহার কারী ছাত্রদের অবস্থা একটু জেনে নিন
সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০০ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকোর্স গবেষণার এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কিশোরদের ৮১ শতাংশ হাল আমলের তথাকথিত প্রেমে জড়িয়ে পড়ছে ৪৫ শতাংশ মোবাইলে বিকৃত আলাপ করছে।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে-
৩ শ শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত মোবাইল সেট আছে ১৮৬ জনের
৪টির বেশি সিম ব্যবহার করেন ২৭জন
৩টি সিম ব্যবহার করেন ১২৯ জন
২টি সিম ব্যবহার করেন ১৪৪ জন
গবেষণায় আরো দেখা যায়-
মোবাইল ফোনে প্রতিদিন ৬ ঘন্টার বেশি কথা বলেন ৫৫ জন
৪ ঘন্টা কথা বলেন ৬০ জন
২ ঘন্টা কথা বলেন ৮৫ জন
মোবাইলের মাধ্যমে প্রেম হয়েছে ১৫০ জনের। মোবাইলে বিকৃত আলাপ করেন ৮৪ জন।
এ দিকে জানুয়ারি ২০০৯ এ- স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরিচালিত আরেকটি গবেষণা জরিপে নিন্মোক্ত ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়।
এতে দেখা যায়-
১০০ জনের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারকারী ৯৩ জন। তরুণ ৬০, তরুণী ৪০ জন।
এসব কেন হচ্ছে একটু চিন্তা করেছেন বা ভেবেছেন ? নারীবাদীদের কথা বার্তা তাদের নাচ ডং রুপ চর্চার মহরার ,বাজারী পতিতার চেয়ে অধম কিছু নারী ব্যাক্তির কথা উপর আমরা কেন নেচে বেরাব? কি দায় পরেছে আমার আপনার ? আপনি কে এই কুরআন সুন্নাহর পথ চেড়ে । কেন কিছু সাধারন পুরুশ আর নারীদের পাল্লায় পড়ে আল্লাহ ও তার রাসুলের পথের কাটা হচ্ছেন ?
আর হা আরেকটি কথা তিনি বলেছেন আর তার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন তা হল প্রচার-প্রসার । আর ইনশা আল্লাহ আলেম সমাজ এখন আর পিচিয়ে নেই আমরা এখন ব্লগে ,টুইটারে ,ফেসবুকে অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাই বলুন কেন সেখানেই একজন আলেম পাবেন ।
আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দান করুন ,আমীন
আর হা বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাহার কারী ছাত্রদের অবস্থা একটু জেনে নিন
সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০০ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকোর্স গবেষণার এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কিশোরদের ৮১ শতাংশ হাল আমলের তথাকথিত প্রেমে জড়িয়ে পড়ছে ৪৫ শতাংশ মোবাইলে বিকৃত আলাপ করছে।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে-
৩ শ শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত মোবাইল সেট আছে ১৮৬ জনের
৪টির বেশি সিম ব্যবহার করেন ২৭জন
৩টি সিম ব্যবহার করেন ১২৯ জন
২টি সিম ব্যবহার করেন ১৪৪ জন
গবেষণায় আরো দেখা যায়-
মোবাইল ফোনে প্রতিদিন ৬ ঘন্টার বেশি কথা বলেন ৫৫ জন
৪ ঘন্টা কথা বলেন ৬০ জন
২ ঘন্টা কথা বলেন ৮৫ জন
মোবাইলের মাধ্যমে প্রেম হয়েছে ১৫০ জনের। মোবাইলে বিকৃত আলাপ করেন ৮৪ জন।
এ দিকে জানুয়ারি ২০০৯ এ- স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরিচালিত আরেকটি গবেষণা জরিপে নিন্মোক্ত ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়।
এতে দেখা যায়-
১০০ জনের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারকারী ৯৩ জন। তরুণ ৬০, তরুণী ৪০ জন।
এসব কেন হচ্ছে একটু চিন্তা করেছেন বা ভেবেছেন ? নারীবাদীদের কথা বার্তা তাদের নাচ ডং রুপ চর্চার মহরার ,বাজারী পতিতার চেয়ে অধম কিছু নারী ব্যাক্তির কথা উপর আমরা কেন নেচে বেরাব? কি দায় পরেছে আমার আপনার ? আপনি কে এই কুরআন সুন্নাহর পথ চেড়ে । কেন কিছু সাধারন পুরুশ আর নারীদের পাল্লায় পড়ে আল্লাহ ও তার রাসুলের পথের কাটা হচ্ছেন ?
আর হা আরেকটি কথা তিনি বলেছেন আর তার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন তা হল প্রচার-প্রসার । আর ইনশা আল্লাহ আলেম সমাজ এখন আর পিচিয়ে নেই আমরা এখন ব্লগে ,টুইটারে ,ফেসবুকে অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাই বলুন কেন সেখানেই একজন আলেম পাবেন ।
আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দান করুন ,আমীন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন